এটা সেকেলে গল্প। যখন গল্পই লেখা হত কাগজের পাতায়। কালি ফুরোনো খালি কলমগুলোও থাকতো টেবিলের উপর। রঙ বে-রঙের খালি কলম জমানোও ছিলো শখের তালিকায়। সকাল হতে না হতেই নানান ধরনের হকারের ডাক শোনা যেতো। আর ছুটির দিনে যেনো এই মাত্রাটা অনেকটাই বেশী। কখনো হাওয়া মিঠাই, কখনোবা কটকটি। তবে আমার পছন্দ ছিলো লাল/সবুজ রঙের বোম্বাই আইসক্রিম। অদ্ভূত এক খাবার। জিহবা দিয়ে চাটতেই নানান রঙ্গে রঙ্গিন হতো ঠোট, দাত, মুখ।

খুব শখ হয়েছিলো সেবারের একুশে ফেব্রুয়ারিতে সত্যিকারের শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাবো। কিন্তু মা-ছেলের বেরসিক সেকেলে সংসারে এসবও যেনো অধরার তালিকায়। তাই বিশাল স্বপ্নের ক্ষুদ্র আশা যেনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে বানানো প্রতীকী শহীদ মিনার।

ফুল না হয় দেয়া যাবে কিন্তু ফুল কেনার টাকা পাবো কোথায়? সেকেলের জীবন সংসার বড্ড বেশী হিসেব করে চলতো। যেখানে এক টাকায় চারটে চকলেট পাওয়া যেত, সেখানে টাকার মূল্যটাও একটু বেশীই ছিলো। সকাল থেকে মায়াকান্না কাঁদলে হয়তো বিকেলের দিকে এক/দুই টাকা পাওয়া যেতো তাও আবার পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করবো এই প্রতিজ্ঞার বিনিময়ে। কিন্তু ফুল দিতে হবে তো সকালেই আর এক/দুই টাকায় কি মিলবে ফুল?

তাই টাকার বায়না ছেড়ে অন্য উপায় খুজতে হবে। বুদ্ধি এলো, নার্সারিতে গিয়ে ফুল চুরি করতে হবে। কিন্তু চুরি করা ফুল দিয়ে শহীদদের সম্মান জানানোটা কি ঠিক হবে? কত শত চিন্তা ভাবনা এই ছোট্ট মস্তিষ্কে। আর পারছিলাম না, তাই কিছু না ভেবেই দুই কিলো পথ হেটে পৌঁছে গেলাম নার্সারিতে। চুপি চুপি ঢুকেও পড়লাম। কিন্তু ফুল চুরি করার কোনো উপায় পাচ্ছি না। কিছুটা আশাহত মন নিয়ে যেই বেরোতে যাবো ঠিক তখনই খুব সুন্দর বড় আকারের একটা গোলাপ পরে আছে গাছের নিচে। আনন্দ আধখানা আমার চোখ-মুখ কিছু না ভেবেই, কেউ দেখার আগেই তুলে নিয়ে সে কি দৌড়। আমাকে আর পায় কে। বেশ কিছুটা পথ দৌড়িয়ে চলে এলাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বানানো প্রতীকী শহীদ মিনারের কাছে। সারিবদ্ধভাবে দাড়ালাম, ঠিক টেলিভিশনে দেখানো ছবির মত, ছোট্ট ছোট্ট কদমে এগিয়ে শহীদ মিনারের পাশেই কুড়িয়ে পাওয়া ফুলটা রেখে বাড়ির পথে পা বাড়ালাম।

21st February
21st February